ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love):
আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই ...: আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই কবে তোমাকে দেখেছিলাম, অনেকদিন দেখা হয় নি তবুও তোমাকে আমি সারাক্ষণ ভাবি। আজ জানতে খুব ইচ্...
বৃহস্পতিবার, ৪ এপ্রিল, ২০১৩
ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love): আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই ...
ভালবাসার ডাকপিয়ন (the cafe of love):
আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই ...: আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই কবে তোমাকে দেখেছিলাম, অনেকদিন দেখা হয় নি তবুও তোমাকে আমি সারাক্ষণ ভাবি। আজ জানতে খুব ইচ্...
আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই ...: আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই কবে তোমাকে দেখেছিলাম, অনেকদিন দেখা হয় নি তবুও তোমাকে আমি সারাক্ষণ ভাবি। আজ জানতে খুব ইচ্...
আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার সাথে দেখা হয় না, সেই কবে তোমাকে দেখেছিলাম, অনেকদিন দেখা হয় নি তবুও তোমাকে আমি সারাক্ষণ ভাবি।
আজ জানতে খুব ইচ্ছে করছে এত দিনে আমার কথা কি কখনও তোমার মনে পডেছে ??
আমার মনে হয় পাডে.ছে, হয়ত তখন তোমার খুব খারাপ লেগেছে ,হয়ত না। আমার খুব মনে পাডেছে, খুব খারাপও লেগেছ।
জানো আজও আমি তোমাকে ফিরে পাব বলে স্বপ্ন দেখি। জানিনা কেন এরকম হল আজও দুজন পাশপাশি থাকতে পারতাম।
বুধবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৩
এই যে এই যে
By-তানভীর মাহমুদুল হাসান
-মামা ধানমন্ডি যাবেন?
-না যাইতাম না।
-তাহলে কোথায় যাবেন?
-যাইতাম না।
(স্বর্গে যাবেন? যাইতাম না।)
কোন রিকশাওয়ালাই যেতে রাজি না।একজন রাজি হল যাবে কিন্তু ভাড়া ৫০ টাকা।দৈনিক ইনকাম ৪০ টাকাও না! রিকশাওয়ালাকে কেন ৫০ টাকা দিবো?
অবশেষে পাশে দাড়িয়ে কিছু খাওয়া শুরু করলাম।প্রথমে কেক পরে ডাব খেলাম।খাওয়ার পর নাকি সকল মুশকিলের আহসান ঘটে।আপাতত রিকশাওয়ালার মনের পাথর গলে পানি হোক তাই চাওয়া।
-মামা ৫০ টেকা!!
-কেরে?
-ডাব খাইলেন কেক খাইলেন তয় কি ১০ টেকা দিবেন?
রিকশার জন্য ওয়েট করতে গিয়ে ধানমন্ডি যাওয়ার রিকশা ভাড়াটা শেষ!!
এখন কি উপায়? ছেঁড়া জিন্সের তলদেশ খুজেও একটি ১০ টাকা নোট পেলাম না।ধানমন্ডি কিভাবে যাবো? শার্টের বোতাম খুলে রিকশাওয়ালাকে গিয়ে বলবো আমি এলাকার নামকরা মাস্তান?
গিয়ে বলবো অমুক এমপি আমার পরিচিত?
না মানুষ ঠকাতেও ভালো লাগছেনা।তার থেকে নিজেকেই ঠকাই।মানুষকে কষ্ট দেয়া সহজ কিন্তু নিজেকে কষ্ট দেয়া এত সহজ না।সবাই নিজেকে খুবই ভালোবাসে।আমিও ব্যতিক্রম না।
পায়ে হেটেই আমার যাত্রা শুরু।কিন্তু কিছুদুর হাটতেই চোখে পড়লো সেই রিকশাওয়ালাকে।যে একটু আগে আমাকে যাবেনা বলে আমার পায়ের পাতার কাছে পানের পিক ফেলেছিল। সে এক মেয়েকে রিকশায় নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
মেজাজটাই খাড়া হয়ে গেল।একটু আগে নিজেকে ভালোবাসার কষ্ট দেয়া মূলক উক্তিটি সাথে সাথেই ভুলে গেলাম।দৌড়ে রিকশাওয়ালার কাছে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম।
-এখন কই যাস?
-ধানমণ্ডি যাই।
-আমি কইলাম যাস নাই এখন যাস! হারামজাদা নারীবাদী রিকশা ড্রাইভার।থাবড়া মাইরা তোর শার্টের বোতাম ছিরালামু।
(রিকশায় আরোহণকারী মেয়েটি তখন রেগে গেল)
-কি ব্যাপার আপনি এমন ব্যবহার করছেন কেন?
-KFC থেকে মুরগী নিয়ে এসে রিকশাওয়ালাকে দেই? দেই? এইটা আমার আর ওর ব্যাপার।আপনি চুপ থাকেন নাইলে নেমে যান।
-দেখেন আপনি কিন্তু বেশি করছেন।
-এই হারামজাদাকে আমি বললাম যাবি কিনা।সে বলে না।এখন আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে।তার জন্য আমি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে রিকশা ভাড়া খেয়েও ফেলেছি।সে হা বললে এই পরিস্থিতি তা হতোনা।
-আচ্ছা তাহলে আপনি যান।আমি নেমে যাই।
(আমার মন নরম হয়ে গেল।একটু বেশি করে ফেললাম?আমি তো হেটেই ভালোভাবে যাচ্ছিলাম।ধানমন্ডির রাস্তায় আমি তো হেটে যাওয়াই পছন্দ করি।তবে আজ কেন খেপে গেলাম?)
-ওকে আপু সরি আপনি যান।বেশি বলে ফেলছি।
রিকশাওয়ালা তাকিয়ে আছে আমারদিকে।স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে কেউ কলারে ধরলে তারাও পাল্টা জবাব দেয় সেই লোকের টাইে ধরে।কিন্তু আমার সাথে এমন করেনি।
-মামা যাও।সামনে পান্থপথ সিগানল!! দেখে রাস্তা পার হবা।লাল বাতি জ্বললে প্যাডেল মাইরনা।
আমি ফুটপাথে হাটা শুরু করলাম।মোটা আটার রুটি আর গুড় দিয়ে খেয়ে চলছে একদল ক্ষুধার্ত মানুষ আরেকদল নেশার ক্ষুদায় গাজা নামক এক দ্রব্য ধরিয়ে আশেপাশের মানুষকে সাঁজা দিয়ে যাচ্ছে।আমি হাটতে হাটতে অন্যমনস্ক হয়ে যাই।তখনই কে যেন ডাক দিল "এই যে এই যে বলে"।
নাম ধরে ডাকতে পারেনা?আমার নাম সে না জানতে পারে কিন্তু একটা নাম সে দিয়ে সেই নামেও তো ডাকতে পারে।কেন শুধু শুধু এই ঐ বলে মেজাজ খারাপ করিয়ে দিবে?
রিকশার ঘটনা ভুলেই গিয়েছিলাম।আমার চলার ফুটপাথ ঘেঁষে রিকশাটি দাঁড়ালো।মেয়েটি হুড থেকে মাথা বের করে বলল।
-চলুন একসাথেই যাই,যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
-আমার আপত্তি নেই।কিন্তু রিকশাওয়ালা কি বলে? তিনি তো মালিক মানুষ।আমি আপনি তার কাছে মনিবের মতো।
রিকশাওয়ালা মুচকি হাসি দিল।
-আমি মেয়েটির পাশে বসেই তার দিকে তাকালাম।আমি তাকে চিনিনা।সেও আমাকে চিনেনা।সে আমাকে কতক্ষণ সহ্য করবে? একটু পরেই কি বলবে "এই আপনি নেমে যান"।
এই করেই তো বলবে।এখনও যে নাম জানেনা।
By-তানভীর মাহমুদুল হাসান
-মামা ধানমন্ডি যাবেন?
-না যাইতাম না।
-তাহলে কোথায় যাবেন?
-যাইতাম না।
(স্বর্গে যাবেন? যাইতাম না।)
কোন রিকশাওয়ালাই যেতে রাজি না।একজন রাজি হল যাবে কিন্তু ভাড়া ৫০ টাকা।দৈনিক ইনকাম ৪০ টাকাও না! রিকশাওয়ালাকে কেন ৫০ টাকা দিবো?
অবশেষে পাশে দাড়িয়ে কিছু খাওয়া শুরু করলাম।প্রথমে কেক পরে ডাব খেলাম।খাওয়ার পর নাকি সকল মুশকিলের আহসান ঘটে।আপাতত রিকশাওয়ালার মনের পাথর গলে পানি হোক তাই চাওয়া।
-মামা ৫০ টেকা!!
-কেরে?
-ডাব খাইলেন কেক খাইলেন তয় কি ১০ টেকা দিবেন?
রিকশার জন্য ওয়েট করতে গিয়ে ধানমন্ডি যাওয়ার রিকশা ভাড়াটা শেষ!!
এখন কি উপায়? ছেঁড়া জিন্সের তলদেশ খুজেও একটি ১০ টাকা নোট পেলাম না।ধানমন্ডি কিভাবে যাবো? শার্টের বোতাম খুলে রিকশাওয়ালাকে গিয়ে বলবো আমি এলাকার নামকরা মাস্তান?
গিয়ে বলবো অমুক এমপি আমার পরিচিত?
না মানুষ ঠকাতেও ভালো লাগছেনা।তার থেকে নিজেকেই ঠকাই।মানুষকে কষ্ট দেয়া সহজ কিন্তু নিজেকে কষ্ট দেয়া এত সহজ না।সবাই নিজেকে খুবই ভালোবাসে।আমিও ব্যতিক্রম না।
পায়ে হেটেই আমার যাত্রা শুরু।কিন্তু কিছুদুর হাটতেই চোখে পড়লো সেই রিকশাওয়ালাকে।যে একটু আগে আমাকে যাবেনা বলে আমার পায়ের পাতার কাছে পানের পিক ফেলেছিল। সে এক মেয়েকে রিকশায় নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
মেজাজটাই খাড়া হয়ে গেল।একটু আগে নিজেকে ভালোবাসার কষ্ট দেয়া মূলক উক্তিটি সাথে সাথেই ভুলে গেলাম।দৌড়ে রিকশাওয়ালার কাছে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম।
-এখন কই যাস?
-ধানমণ্ডি যাই।
-আমি কইলাম যাস নাই এখন যাস! হারামজাদা নারীবাদী রিকশা ড্রাইভার।থাবড়া মাইরা তোর শার্টের বোতাম ছিরালামু।
(রিকশায় আরোহণকারী মেয়েটি তখন রেগে গেল)
-কি ব্যাপার আপনি এমন ব্যবহার করছেন কেন?
-KFC থেকে মুরগী নিয়ে এসে রিকশাওয়ালাকে দেই? দেই? এইটা আমার আর ওর ব্যাপার।আপনি চুপ থাকেন নাইলে নেমে যান।
-দেখেন আপনি কিন্তু বেশি করছেন।
-এই হারামজাদাকে আমি বললাম যাবি কিনা।সে বলে না।এখন আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে।তার জন্য আমি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে রিকশা ভাড়া খেয়েও ফেলেছি।সে হা বললে এই পরিস্থিতি তা হতোনা।
-আচ্ছা তাহলে আপনি যান।আমি নেমে যাই।
(আমার মন নরম হয়ে গেল।একটু বেশি করে ফেললাম?আমি তো হেটেই ভালোভাবে যাচ্ছিলাম।ধানমন্ডির রাস্তায় আমি তো হেটে যাওয়াই পছন্দ করি।তবে আজ কেন খেপে গেলাম?)
-ওকে আপু সরি আপনি যান।বেশি বলে ফেলছি।
রিকশাওয়ালা তাকিয়ে আছে আমারদিকে।স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে কেউ কলারে ধরলে তারাও পাল্টা জবাব দেয় সেই লোকের টাইে ধরে।কিন্তু আমার সাথে এমন করেনি।
-মামা যাও।সামনে পান্থপথ সিগানল!! দেখে রাস্তা পার হবা।লাল বাতি জ্বললে প্যাডেল মাইরনা।
আমি ফুটপাথে হাটা শুরু করলাম।মোটা আটার রুটি আর গুড় দিয়ে খেয়ে চলছে একদল ক্ষুধার্ত মানুষ আরেকদল নেশার ক্ষুদায় গাজা নামক এক দ্রব্য ধরিয়ে আশেপাশের মানুষকে সাঁজা দিয়ে যাচ্ছে।আমি হাটতে হাটতে অন্যমনস্ক হয়ে যাই।তখনই কে যেন ডাক দিল "এই যে এই যে বলে"।
নাম ধরে ডাকতে পারেনা?আমার নাম সে না জানতে পারে কিন্তু একটা নাম সে দিয়ে সেই নামেও তো ডাকতে পারে।কেন শুধু শুধু এই ঐ বলে মেজাজ খারাপ করিয়ে দিবে?
রিকশার ঘটনা ভুলেই গিয়েছিলাম।আমার চলার ফুটপাথ ঘেঁষে রিকশাটি দাঁড়ালো।মেয়েটি হুড থেকে মাথা বের করে বলল।
-চলুন একসাথেই যাই,যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
-আমার আপত্তি নেই।কিন্তু রিকশাওয়ালা কি বলে? তিনি তো মালিক মানুষ।আমি আপনি তার কাছে মনিবের মতো।
রিকশাওয়ালা মুচকি হাসি দিল।
-আমি মেয়েটির পাশে বসেই তার দিকে তাকালাম।আমি তাকে চিনিনা।সেও আমাকে চিনেনা।সে আমাকে কতক্ষণ সহ্য করবে? একটু পরেই কি বলবে "এই আপনি নেমে যান"।
এই করেই তো বলবে।এখনও যে নাম জানেনা।
এই যে এই যে
By-তানভীর মাহমুদুল হাসান
-মামা ধানমন্ডি যাবেন?
-না যাইতাম না।
-তাহলে কোথায় যাবেন?
-যাইতাম না।
(স্বর্গে যাবেন? যাইতাম না।)
কোন রিকশাওয়ালাই যেতে রাজি না।একজন রাজি হল যাবে কিন্তু ভাড়া ৫০ টাকা।দৈনিক ইনকাম ৪০ টাকাও না! রিকশাওয়ালাকে কেন ৫০ টাকা দিবো?
অবশেষে পাশে দাড়িয়ে কিছু খাওয়া শুরু করলাম।প্রথমে কেক পরে ডাব খেলাম।খাওয়ার পর নাকি সকল মুশকিলের আহসান ঘটে।আপাতত রিকশাওয়ালার মনের পাথর গলে পানি হোক তাই চাওয়া।
-মামা ৫০ টেকা!!
-কেরে?
-ডাব খাইলেন কেক খাইলেন তয় কি ১০ টেকা দিবেন?
রিকশার জন্য ওয়েট করতে গিয়ে ধানমন্ডি যাওয়ার রিকশা ভাড়াটা শেষ!!
এখন কি উপায়? ছেঁড়া জিন্সের তলদেশ খুজেও একটি ১০ টাকা নোট পেলাম না।ধানমন্ডি কিভাবে যাবো? শার্টের বোতাম খুলে রিকশাওয়ালাকে গিয়ে বলবো আমি এলাকার নামকরা মাস্তান?
গিয়ে বলবো অমুক এমপি আমার পরিচিত?
না মানুষ ঠকাতেও ভালো লাগছেনা।তার থেকে নিজেকেই ঠকাই।মানুষকে কষ্ট দেয়া সহজ কিন্তু নিজেকে কষ্ট দেয়া এত সহজ না।সবাই নিজেকে খুবই ভালোবাসে।আমিও ব্যতিক্রম না।
পায়ে হেটেই আমার যাত্রা শুরু।কিন্তু কিছুদুর হাটতেই চোখে পড়লো সেই রিকশাওয়ালাকে।যে একটু আগে আমাকে যাবেনা বলে আমার পায়ের পাতার কাছে পানের পিক ফেলেছিল। সে এক মেয়েকে রিকশায় নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
মেজাজটাই খাড়া হয়ে গেল।একটু আগে নিজেকে ভালোবাসার কষ্ট দেয়া মূলক উক্তিটি সাথে সাথেই ভুলে গেলাম।দৌড়ে রিকশাওয়ালার কাছে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম।
-এখন কই যাস?
-ধানমণ্ডি যাই।
-আমি কইলাম যাস নাই এখন যাস! হারামজাদা নারীবাদী রিকশা ড্রাইভার।থাবড়া মাইরা তোর শার্টের বোতাম ছিরালামু।
(রিকশায় আরোহণকারী মেয়েটি তখন রেগে গেল)
-কি ব্যাপার আপনি এমন ব্যবহার করছেন কেন?
-KFC থেকে মুরগী নিয়ে এসে রিকশাওয়ালাকে দেই? দেই? এইটা আমার আর ওর ব্যাপার।আপনি চুপ থাকেন নাইলে নেমে যান।
-দেখেন আপনি কিন্তু বেশি করছেন।
-এই হারামজাদাকে আমি বললাম যাবি কিনা।সে বলে না।এখন আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে।তার জন্য আমি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে রিকশা ভাড়া খেয়েও ফেলেছি।সে হা বললে এই পরিস্থিতি তা হতোনা।
-আচ্ছা তাহলে আপনি যান।আমি নেমে যাই।
(আমার মন নরম হয়ে গেল।একটু বেশি করে ফেললাম?আমি তো হেটেই ভালোভাবে যাচ্ছিলাম।ধানমন্ডির রাস্তায় আমি তো হেটে যাওয়াই পছন্দ করি।তবে আজ কেন খেপে গেলাম?)
-ওকে আপু সরি আপনি যান।বেশি বলে ফেলছি।
রিকশাওয়ালা তাকিয়ে আছে আমারদিকে।স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে কেউ কলারে ধরলে তারাও পাল্টা জবাব দেয় সেই লোকের টাইে ধরে।কিন্তু আমার সাথে এমন করেনি।
-মামা যাও।সামনে পান্থপথ সিগানল!! দেখে রাস্তা পার হবা।লাল বাতি জ্বললে প্যাডেল মাইরনা।
আমি ফুটপাথে হাটা শুরু করলাম।মোটা আটার রুটি আর গুড় দিয়ে খেয়ে চলছে একদল ক্ষুধার্ত মানুষ আরেকদল নেশার ক্ষুদায় গাজা নামক এক দ্রব্য ধরিয়ে আশেপাশের মানুষকে সাঁজা দিয়ে যাচ্ছে।আমি হাটতে হাটতে অন্যমনস্ক হয়ে যাই।তখনই কে যেন ডাক দিল "এই যে এই যে বলে"।
নাম ধরে ডাকতে পারেনা?আমার নাম সে না জানতে পারে কিন্তু একটা নাম সে দিয়ে সেই নামেও তো ডাকতে পারে।কেন শুধু শুধু এই ঐ বলে মেজাজ খারাপ করিয়ে দিবে?
রিকশার ঘটনা ভুলেই গিয়েছিলাম।আমার চলার ফুটপাথ ঘেঁষে রিকশাটি দাঁড়ালো।মেয়েটি হুড থেকে মাথা বের করে বলল।
-চলুন একসাথেই যাই,যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
-আমার আপত্তি নেই।কিন্তু রিকশাওয়ালা কি বলে? তিনি তো মালিক মানুষ।আমি আপনি তার কাছে মনিবের মতো।
রিকশাওয়ালা মুচকি হাসি দিল।
-আমি মেয়েটির পাশে বসেই তার দিকে তাকালাম।আমি তাকে চিনিনা।সেও আমাকে চিনেনা।সে আমাকে কতক্ষণ সহ্য করবে? একটু পরেই কি বলবে "এই আপনি নেমে যান"।
এই করেই তো বলবে।এখনও যে নাম জানেনা।
By-তানভীর মাহমুদুল হাসান
-মামা ধানমন্ডি যাবেন?
-না যাইতাম না।
-তাহলে কোথায় যাবেন?
-যাইতাম না।
(স্বর্গে যাবেন? যাইতাম না।)
কোন রিকশাওয়ালাই যেতে রাজি না।একজন রাজি হল যাবে কিন্তু ভাড়া ৫০ টাকা।দৈনিক ইনকাম ৪০ টাকাও না! রিকশাওয়ালাকে কেন ৫০ টাকা দিবো?
অবশেষে পাশে দাড়িয়ে কিছু খাওয়া শুরু করলাম।প্রথমে কেক পরে ডাব খেলাম।খাওয়ার পর নাকি সকল মুশকিলের আহসান ঘটে।আপাতত রিকশাওয়ালার মনের পাথর গলে পানি হোক তাই চাওয়া।
-মামা ৫০ টেকা!!
-কেরে?
-ডাব খাইলেন কেক খাইলেন তয় কি ১০ টেকা দিবেন?
রিকশার জন্য ওয়েট করতে গিয়ে ধানমন্ডি যাওয়ার রিকশা ভাড়াটা শেষ!!
এখন কি উপায়? ছেঁড়া জিন্সের তলদেশ খুজেও একটি ১০ টাকা নোট পেলাম না।ধানমন্ডি কিভাবে যাবো? শার্টের বোতাম খুলে রিকশাওয়ালাকে গিয়ে বলবো আমি এলাকার নামকরা মাস্তান?
গিয়ে বলবো অমুক এমপি আমার পরিচিত?
না মানুষ ঠকাতেও ভালো লাগছেনা।তার থেকে নিজেকেই ঠকাই।মানুষকে কষ্ট দেয়া সহজ কিন্তু নিজেকে কষ্ট দেয়া এত সহজ না।সবাই নিজেকে খুবই ভালোবাসে।আমিও ব্যতিক্রম না।
পায়ে হেটেই আমার যাত্রা শুরু।কিন্তু কিছুদুর হাটতেই চোখে পড়লো সেই রিকশাওয়ালাকে।যে একটু আগে আমাকে যাবেনা বলে আমার পায়ের পাতার কাছে পানের পিক ফেলেছিল। সে এক মেয়েকে রিকশায় নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছে।
মেজাজটাই খাড়া হয়ে গেল।একটু আগে নিজেকে ভালোবাসার কষ্ট দেয়া মূলক উক্তিটি সাথে সাথেই ভুলে গেলাম।দৌড়ে রিকশাওয়ালার কাছে গিয়ে তার কলার চেপে ধরলাম।
-এখন কই যাস?
-ধানমণ্ডি যাই।
-আমি কইলাম যাস নাই এখন যাস! হারামজাদা নারীবাদী রিকশা ড্রাইভার।থাবড়া মাইরা তোর শার্টের বোতাম ছিরালামু।
(রিকশায় আরোহণকারী মেয়েটি তখন রেগে গেল)
-কি ব্যাপার আপনি এমন ব্যবহার করছেন কেন?
-KFC থেকে মুরগী নিয়ে এসে রিকশাওয়ালাকে দেই? দেই? এইটা আমার আর ওর ব্যাপার।আপনি চুপ থাকেন নাইলে নেমে যান।
-দেখেন আপনি কিন্তু বেশি করছেন।
-এই হারামজাদাকে আমি বললাম যাবি কিনা।সে বলে না।এখন আপনাকে নিয়ে যাচ্ছে।তার জন্য আমি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে রিকশা ভাড়া খেয়েও ফেলেছি।সে হা বললে এই পরিস্থিতি তা হতোনা।
-আচ্ছা তাহলে আপনি যান।আমি নেমে যাই।
(আমার মন নরম হয়ে গেল।একটু বেশি করে ফেললাম?আমি তো হেটেই ভালোভাবে যাচ্ছিলাম।ধানমন্ডির রাস্তায় আমি তো হেটে যাওয়াই পছন্দ করি।তবে আজ কেন খেপে গেলাম?)
-ওকে আপু সরি আপনি যান।বেশি বলে ফেলছি।
রিকশাওয়ালা তাকিয়ে আছে আমারদিকে।স্বাভাবিকভাবে তাদেরকে কেউ কলারে ধরলে তারাও পাল্টা জবাব দেয় সেই লোকের টাইে ধরে।কিন্তু আমার সাথে এমন করেনি।
-মামা যাও।সামনে পান্থপথ সিগানল!! দেখে রাস্তা পার হবা।লাল বাতি জ্বললে প্যাডেল মাইরনা।
আমি ফুটপাথে হাটা শুরু করলাম।মোটা আটার রুটি আর গুড় দিয়ে খেয়ে চলছে একদল ক্ষুধার্ত মানুষ আরেকদল নেশার ক্ষুদায় গাজা নামক এক দ্রব্য ধরিয়ে আশেপাশের মানুষকে সাঁজা দিয়ে যাচ্ছে।আমি হাটতে হাটতে অন্যমনস্ক হয়ে যাই।তখনই কে যেন ডাক দিল "এই যে এই যে বলে"।
নাম ধরে ডাকতে পারেনা?আমার নাম সে না জানতে পারে কিন্তু একটা নাম সে দিয়ে সেই নামেও তো ডাকতে পারে।কেন শুধু শুধু এই ঐ বলে মেজাজ খারাপ করিয়ে দিবে?
রিকশার ঘটনা ভুলেই গিয়েছিলাম।আমার চলার ফুটপাথ ঘেঁষে রিকশাটি দাঁড়ালো।মেয়েটি হুড থেকে মাথা বের করে বলল।
-চলুন একসাথেই যাই,যদি আপনার আপত্তি না থাকে।
-আমার আপত্তি নেই।কিন্তু রিকশাওয়ালা কি বলে? তিনি তো মালিক মানুষ।আমি আপনি তার কাছে মনিবের মতো।
রিকশাওয়ালা মুচকি হাসি দিল।
-আমি মেয়েটির পাশে বসেই তার দিকে তাকালাম।আমি তাকে চিনিনা।সেও আমাকে চিনেনা।সে আমাকে কতক্ষণ সহ্য করবে? একটু পরেই কি বলবে "এই আপনি নেমে যান"।
এই করেই তো বলবে।এখনও যে নাম জানেনা।
আমি,মিতু এবং স্বপ্নিল
By-একাকী রাজপুত্র আবির
আজ সব পিছু টান ফেলে হারিয়ে যাব অসীমে তোমাকে নিয়ে । যেখানে থাকব শুধু তুমি আর আমি। ২ জন মিলে পূরণ করব এতদিন ধরে দেখা সে সব স্বপ্ন গুলো , যা পড়ে রয়েছে পরিপূর্ণতার অপেক্ষায়। ভাসবো দুইজন মেঘের ডানায়। সঙ্গী হবে হলুদ পাখির। উড়ব দু’জন স্বপ্নের দেশে।
হটাত কিসের যেন শব্দে চমকে গেলাম,নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমার বিছানায়। ঘড়ির টিক টিক শব্দের আওয়াজ টা আজ কেমন যেন বেড়ে গিয়েছে, বড্ড কানে লাগছে। পাশ ফিরে মোবাইলে দেখলাম ০৪.০৫ । তার মানে ভোর হতে শুরু করেছে। শুনলাম পেঁচা ডাকছে জানালার পাশে । এটার শব্দেই হয়ত ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। পাশে দেখি আমার ছেলের নিষ্পাপ চেহারা টা , ঘুমাচ্ছে ও। উঠে বসলাম ।পাশে টেবিলে রাখা গ্লাস টা থেকে পানি খেতে গিয়ে দেখি পানি নেই। উফফ আজ ও রাখা হয়নি। মিতু থাকতে কখনই ভুল টা করত না । কারন ও জানে যখনই রাতে আমার ঘুম টা ভেঙ্গে যায় তখন পানি খেতে হয়। এটা আমার অভ্যেস।
এই একটা স্বপ্ন গত ১০ বছর ধরে অনেক বার দেখেছি।আমি স্বপ্ন টাকে পরিপূর্ণতাও দিয়েছিলাম।কিন্তু হটাত এক অজানা ঝড় এসে সব ভেঙ্গে চুড়ে ধ্বংস করে দিয়ে গেল। আজ মিতু আমার থেকে অনেক দূরে। ও আমার থেকে অনেক দূরে আর রেখে গেছে ওর অস্তিত্ত কে আমার কাছে। আর তাকে ঘিরেই আমার জীবন।ওর মুখের দিকে তাকিয়েই আমার বেঁচে থাকা। হ্যা আমাদের ছেলে স্বপ্নিল এর কথাই বলছি। ওর বয়স আজ ৪ বছর ৫ মাস ৩ দিন হতে চলল। ওর বয়সের প্রতিটা দিন মনে রাখার মাঝে একটা কারন আছে। মাঝে মাঝে একাকীত্ব তা অনেক কষ্টের লাগে। কিন্তু ও যখন আব্বু আব্বু বলে বুকে ঝাঁপিয়ে পরে কষ্টের ভার তা অনেক কম লাগে। ওর চেহারা টা হয়েছে ঠিক ওর মায়ের মতো।অনেক আদুরে, আর ও হাসলে মিতুর মত ওর গালেও টোল পরে । এতে ওর চেহারাটা অনেক মধুর লাগে।
দেখতে দেখতে আমার ছেলেটা অনেক বড় হয়ে গেল।অনেক বুঝতে শিখেছে ও,আগের মত বায়না করে না যে সবার আম্মু আছে আমার আম্মু নেই কেন? অনেক কষ্ট হত ওকে বুঝ মানাতে ।বুয়া যখন ফোন দিত , ওর কান্না আর থামান যাচ্ছে না,অফিসের অনেক প্রয়োজনীয় মিটিং ফেলে আমাকে দৌড়ে চলে আসতে হয়েছে,স্বপ্নিল অনেক রাগী,আমি ছাড়া আর কেউ থামাতে পারে না ওর যখন রাগ উঠে তখন।ওকে দোষ দিয়ে কি লাভ মাঝে মাঝে আমি নিজেয় নিজেকে বুঝাতে পারি না।আজ অনেক মনে পড়ছে আমার মিতু টাকে। পুরানো দিন গুলি বার বার চোখের সামনে ভাসছে।
সাল তখন ২০১২ ডিসেম্বর মাস চলছিল।আমি তখন ৩য় বর্ষের ছাত্র। আমার ছোট থেকেই অনেক লিখার শখ। তাই একটু একটু লেখালেখির চেষ্টা করতাম। ফেবু তে আমার পেজ ছিল, অনেক পেজ এ আমার ছোট গল্প বা বিভিন্ন ছোট লেখা ছাপা হত।সেই কারনে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলাম।অনেকেই আমার লেখা পছন্দ করত। নিয়মিত অনেক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসত। মোটামুটি সবাইকেই বন্ধু বানাতাম কেবল ফেইক আইডি ছাড়া। মেঘবতী কন্যা নামের একটি মেয়ের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অনেকদিন ধরে ঝুলে আছে। আমি এই টাইপের নামের রিকুয়েস্ট কম পাইনি, কারন এইগুলো ফেইক হয় বেশি।তাও ওই আইডিটার টাইম লাইনে গিয়ে দেখলাম রিয়েল হতে পারে , তাই এড করলাম। অনলাইনেই ছিলাম। হটাত দেখি চ্যাট এ মেসেজ,
-আপনার তো দেখি অনেক পার্ট।
-মানে কি? কি বলতে চান???
-এতদিন হল রিকুয়েস্ট পাঠালাম এড করেননি কেন?
- আপনি কে?আপনাকে কি আমি চিনি?
-চিনতে হবে না,না চিনলে কি আইডি তে রাখা যাই না??
-হা যায়, কিন্তু আপনার নাম কি?
- আপনি কি অন্ধ নাকি ???? আমার আইডি নাম দেখছেন না?
- হ্যা দেখছি,কিন্তু মেঘবতী নামে তো কারো নাম শুনিনি কখনও।
- আগে শুনেন নি আজ শুনলেন। আমার নাম নিয়ে আপনার মাথা ব্যাথা কেন???
-না মাথা ব্যাথা না, চিনতে পারছিনা তাই।
-এত চিনতে হবে না, আচ্ছা আপনি তো সেই লেখক তাই না??? যার গল্প **** পেইজ এ প্রকাশিত হয়???
- হ্যা।
-আপনি খুব ভাল লেখেন।
- জি, ধন্যবাদ।
এই ভাবেই আমাদের কথা শুরু হল।অর সাথে আমার নিয়মিত চ্যাট হত। ২ জন খব ভাল বন্ধু হয়ে গেছিলাম।আমাদের আড্ডা খুব জমত। কথা শুরু হলে শেষ ই হত না। ২ জন ২ জন কে তুই করে ডাকতাম। কখন যে ওকে ভালবেসে ফেলেছিলাম বুঝতেই পারিনি।কিন্তু আমি ওকে অনেক ভয় পেতাম যদি সত্যি টা বলি তখন যদি ও আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু একদিন আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। ও ফোন করে বলল ও কাউকে ভালবেসে। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু ওকে বুঝতে দেই নি। ওকে বললাম , খুশির খবর পার্টি কখন দিবি??? ও কেমন যেন মনে হয় মন মরা হয়ে গেল।বলল , ‘দিব’ এই বলে ফোন রেখে দিল। এরপর কয়েকদিন ও চ্যাট এ আসেনি। ভাবলাম হয়ত নতুন প্রেমিক কে নিয়ে ব্যস্ত তাই আসেনি। তাই আমিও আর ফোন দিই নাই। একেকটা দিন খুব খারাপ লাগত,মন মরা হয়ে বসে থাকতাম। ৪ দিন পর ওর ফোন। প্রথম বার রিসিভ করলাম না। ২য় বার এ ধরলাম,
-তুই কি ভাবছিস আমি মরে গেছি??
- ধুরর পাগলী কি বলছিস এসব???
- তা নয়ত কি??? তুই তো একটা বার ফোন দিয়ে জানতে চাস নি আমি কই।
- আসলে তা না,আমি ভাবছি তুই তোর bfকে নিয়ে ব্যস্ত।
- তাই না কুত্তা। তোকে পেলে আমি খুন করব। গত ৪ টা দিন আমি জ্বর এর সাথে যুদ্ধ করছি আর তুই বলছিস কিনা .........।।
-কেমন যেন ভাল লাগল।আমি বললাম তা যুদ্ধে কে জিতল???
-কেন তোর সাথে কে কথা বলছে? ভুত ????
- হি হি হি না, মিতু পাগলী।
-তোর আমার প্রেমিক কে নিয়া বহুত আগ্রহ না???
- থাকবেই ত,হাজার হলেও তো তোর প্রেমিক।
- ঠিক আছে কাল সানমারে আসিস।
- কেন?
- তোকে আমার প্রেমিকের সাথে দেখা করাব।
- কি দরকার?? কি হবে দেখা করে ?
-তোর তো ওকে নিয়ে অনেক আগ্রহ তাই ৪ টার সময় আসবি, আসবি কিন্তু।
-ওকে আসব।
- ওই আমি রাখি, মোবাইলে ব্যালান্স বেশি নেই । রাখছি।
একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম।আবার খারাপ ও লাগছে । যাকে ভালবাসি তার বয়ফ্রেণ্ডের সাথে দেখা করতে হবে । তার সাথে হাসিমুখে কথা কথা বলতে হবে ।কোনভাবেই যেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু আমি মিতুর কথা তো কোনদিন ফেলিনি। যত কষ্ট হোক যেতেই হবে।ওইদিন পুরো রাত ঘুমাতে পারলাম না। সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। যাক সময় ঘনিয়ে আসছে।দুপুরের দিকে ও ফোন দিছিল আসব কিনা শিওর হল। ৪ টার দিকে ঘর থেকে বের হলাম।আজ কেন জানি রাস্তায় জ্যাম ও নেই। তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেলাম।পৌঁছে ওকে ফোন দিলাম।
- কই তুই???
- আসছি রিকশা তে,তুই?
- এইতো তোর জন্যে অপেক্ষা করছি।
- কিরে এত তাড়াতাড়ি চলে এলি? আমার জামাই কে দেখার জন্যে তোর তো তর সইছে না।
- হুম।হাজার হলেও তোর জামাই না। ওই আমি রাখছি,তাড়াতাড়ি আয়।
- রিকশা তো আমি চালাইতেছি না। যিনি রিকশা চালাচ্ছেন তার সাথে কথা বলবি?????
কিছু না বলে ফোন টা রেখে দিলাম।কেন জানি ওর দুষ্টামি গুলা ভাললাগছিল না। ২০ মিন পর ও আসল। এসেই বলে
-কিরে অপেক্ষা করতে করতে টায়ার্ড হয় গেছস ?????????
- না,তোর সাথে কাউকে দেখছিনা যে?
- কে?????
- কেন যাকে দেখা করাবি বলছস।
- ওহ। ও আসবে,চল আমরা উপরে গিয়ে বসি।
উপরে ফুড কোর্ট বাইরে বসলাম না। একটা রেস্টুরেন্ট এ বসলাম। আমি বললাম,
- অর্ডার এখন দিবি? নাকি ও আসলে ??????
- এখন দে।
- আমার জন্ন্যে কফি, কি খাবি তুই?
- আমার জন্ন্যেও কফি।
- উনি আসবেন কখন????????????/
- কেন? বেশি দেখতে ইচ্ছে করছে?
- আরে ওর কারনেই তো আসা, তাই না।
- আচ্ছা, ফাহিম,তুই কাউকে ভালবাসিস????
- হুম, বাসতাম কিন্তু সে অন্য কারো।
- অন্য কারো মানে??
- মানে সে আরেকজন কে ভালবাসে।
- কে সে? আমাকে বল।আমি ওকে তোর কাছে নিয়ে আসব।তোর করে দিব।
- পারবি তুই?
- হ্যাঁ পারবো।
- হুম,আচ্ছা দেখা যাবে, এবার তোর টারে ফোন দে, আসে না কেন?
- অনেক শখ না ওরে দেখার??ওই দ্যাখ
- মানে কি ?? পাশে তো আয়না এখানে কারে দেখব???
- ভালো করে দেখ,বুঝবি।
- মানে কি? কি বুঝাতে চাচ্ছিস তুই?
- ঠিক ই বুঝাতে চাচ্ছি,যা ভাবছিস তাই।
- মানে?????
- মানে বুদ্ধু আমার মনের মানুষটা আর কেউ না তুই ই, এতদিন ভাবছি তুই ও আমাকে ভালবাসিস,তাই তোকে বলিনি,কিন্তু আমি ভুল বুঝছিলাম রে সরি ।তুই ওর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিস আমি তোদের সব ঠিক করে দিব।
কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। নিজেকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ।যাকে ভালোবাসি সেই মানুষ টা আমাকে বলে দিয়েছে সেও আমাকে ভালবাসে।তখন ও ডাকে।
- ওই কি ভাবিস???
- কিছু না।
- ওই আমার যেতে হবে,দেরি হয়ে যাচ্ছে,আর তুই কি রাগ করেছিস??? আমার দুষ্টামিতে??
- আরে দুররর।
- ওকে আমি যাই।
- পৌঁছে ফোন দিস।কথা আছে।
- কি কথা এখন বল।
- না পড়ে বলব।
ওকে রিক্সা তে তুলে দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ওর মনটা মনে হয় খারাপ।থাক আর কিছুক্ষণ পর ও হবে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখি নারী। আমি করব ওকে। ও বাসায় পৌঁছে ফোন দিল। প্রথমবার ধরলাম না। পরেরবার ধরলাম। ফোন এর ওপাশ থেকে সে বলে,
- ওই ফোন ধরস না কেন??
- দেখিনি।
- ও, কি বলবি বল???
- কই কি??
- কই কি মানে?? তুই না বলছিস আমি বাসাই পৌঁছালে কি বলবি,
- ওওও। বলছিলাম???
- কিরে তোর তো দেখি ঢং বেড়ে গেছে, কি বলবি বল নাহলে রাখছি। মাথা টা ধরেছে।
- ও তাই? আচ্ছা তাইলে বাদ দে, পড়ে বলব।
- ওই এখন বল।
- তুই না জানতে চাইছিলি আমি কাকে পছন্দ করি??
- হুম। বল।
- আচ্ছা তুই এখন কই??
- আমি কই মানে আমি আমার বাসায়।
- আরে বলছি কোন রুম এ??
- আমি আমার রুমে।
- তোর রুমে ড্রেসিং টেবিল আছে না??
- হুম আছে তো। কিন্তু এসব জানতে চাস কেন?? যা বলবি বল না।
- প্লিস একটু ড্রেসিং টেবিল এর সামনে যা না। প্লিস।
- তুই না?? একটু শুইছি। তোর জন্ন্যে তাও পারছি না। ওকে আসছি এবার বল।
- আয়নার দিকে দ্যাখ।
- হুম আমাকে দেখা যাচ্ছি দেখছি।
- এবার তোর প্রশ্নের উত্তর পাইছিস??
- মানে কি? কি প্রশ্ন??
- তুই না জানতে চাইছিলি আমি কাকে পছন্দ করি??
- হুম কিন্তু এর সাথে কি সম্পর্ক??
- গাধী আয়নায় যাকে দেখছিস তাকেই আমি ভালোবাসি।
ও হটাত লাইন কেটে দিল। কিছু বুঝলাম না। ৫ মিনিট পর ও ফোন দিল। ফোন ধরার সাথে সাথে ও ঝারা শুরু করল।
- কুত্তা, শালা, বাঁদর, হাতি, টিকটিকি, ফাজিল, বদমাইশ, হারামজাদা, এতদিন ঢং করলি কেন?? বলিস নি কেন?আমাকে কষ্ট দিতে ভালো লাগে??
- কেমনে বলব?? তুই ই তো বল্লি যে তুই কাকে ভালবাসিস। ষ্টক এ গালি আর আছে??
- হুম আছে, সময় হলে পাবি, এই শুন
- হুম বল
- I LOVE U
এই বলে ফোন টা কেটে দিল। কি যে খুশি লাগছিল। সেই থেকে আমাদের যাত্রা শুরু প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার ভিতর ১০ ঘণ্টা ওর সাথে ফোন এ কথা হত। আর সুযোগ পেলেই দেখা। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছিল।আমরা বিয়ের পর আমাদের বাচ্চার নাম কি দিব তাও ঠিক করে রেখেছিলাম। ছেলে হলে স্বপ্নিল আর মেয়ে হলে মেঘা। এরই মাঝে আমি পাস করে বের হলাম, এখন একটা ব্যাঙ্ক এ চাকরি করি আগের চেয়ে একটু কম কথা হয়। কিন্তু তবু আমাদের ভালবাসায় এতোটুকু কমতি হয়নি। দেখতে ৪ বছর পেরিয়ে গেল আমাদের সম্পর্কের। ওর পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসতে থাকে। ও আমাকে বলত ওর আব্বা বা ভাইয়ার সাথে কথা বলতে। আমিও চাচ্ছিলাম কিন্তু কিভাবে যাব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।তখন ফেরেস্তার মত সাহায্য করল ওর এক খালাত বোন। সেই আমার কথা ওর বন্ধু হিসেবে বলে, মিতুর পরিবার ও মেনে নেয়। আমাদের সম্পর্কের ৪ বছর ৪ মাসের মাথায় আমাদের বিয়ে হয়। সেই থেকে আমাদের সুখের সংসার শুরু। আমরা জানতাম এবং আমাদের বন্ধুরাও বলত আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা জুটি। সময় কেটে যাচ্ছিল।
এরই মাঝে একদিন খবর পেলাম আমি বাবা হতে চলেছি।এই খবরটির মাঝে যে এত আনন্দ কখনও কল্পনাও করতে পারিনি। আমাদের পুরা পরিবার খুশি। সবাই ওর অনেক যত্ন করত। আস্তে আস্তে ওর DATE কাছিয়ে আসছিল। ওর নাকি অনেক ভয় হত। আমি ওকে বুঝাতাম এখানে ভয় এর কি আছে। আমরা তো পাশে আছি। আর আমি তো আছিই। কিন্তু পারলাম না। আমি ব্যাঙ্ক এর বিশেষ কাজে ঢাকা গিয়েছিলাম। ওইদিন রাতে আম্মা ফোন করে মিতু কে ক্লিনিক এ নিয়ে যাচ্ছে। আমি বলি ওকে তোমরা নিয়ে যাও।আমি এই বলে সাথে সাথে রওনা হলাম।অনেক কষ্টে বাস এ সিট পেলাম। আমার টেনশন এড় চেয়ে খুশি বেশি লাগছিল। মোবাইল টা সারাদিন চার্জে দেয়নি বন্ধ হয়ে আছে। কোন খবর নিতে পারছিলাম না । মনে মনে হিসেব করলাম আজ আমাদের সম্পর্কের ৫ বছর ৭ মাস হতে চলল। ৬ টার দিকে গাড়ি থেকে নামলাম।তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে ক্লিনিক এর দিকে গেলাম। ক্লিনিক এ দেখি সবাই আছে। কিন্তু পরিবেশ টা কেমন যেন থমথমে। ছোট ভাই জানতে চাইল আমার মোবাইল বন্ধ কেন?? বললাম চার্জ ছিল না। আম্মাকে দেখলাম কোলে একটা ফুটফুটে বাবু। মা বলল। তোর ছেলে হয়েছে। অনেক খুশি লাগছিল। আনন্দে যেন নাচতে ইচ্ছে করছিল। আমি বলি যাই মিতু কে দেখি আসি।সামনে দেখলাম আমার শ্বশুর- শাশুড়ি উনাদের সালাম দিয়ে মিতুর রুম এর দিকে এগিয়ে গেলাম। দরজাটা খুলতেই কেমন যেন পাথর হয়ে গেলাম আমি। বিছানায় আপাদমস্তক সাদা কাপর দিয়ে ডাকা কেউ শুয়ে আছে। কাছে গিয়ে কাপড় সরালাম। না!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! !!!!!!!!!!!!!! এ হতে পারে না। না!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! আমি ওইখানেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।
এরপর জেনেছিলাম মিতুর মাঝে স্বপ্নিল এর জন্মের সাথে সাথে ওর গলব্লাডার এ একটি টিউমার এর জন্ম হয়েছিল। আর সেটি অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। আর ডাক্তার রা ঘুনাক্ষরে ও সেটির কথা জানত না ফলে ওইটি ফেটে যায়। আর আমার মিতু........................। ও নাকি শেষ মুহূর্তে আমার সাথে অনেক কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু আমার মোবাইল বন্ধ থাকাই সেটি সম্ভব হয়নি। আমার মিতু টা কষ্ট নিয়ে চলে গেল। আমার সাথে কথা বলতে পারল না। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। যেই অপরাধবোধ আমি এখনও কাঁধে নিয়ে ঘুরছি।
হটাত এলারম এর শব্দে খেয়াল হল। ৭ টা বেজে গেছে। স্বপ্নিল কে রেডি করতে হবে। আমার রেডি হতে হবে। আমার মিতু টা নিশ্চয় ওইপার থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার এই হাল দেখছে। সেই অগোছালো আমি কে ও কতটা গুছিয়ে দিয়ে গেছে। আর সাথে নিয়ে গেছে আমার সব সুখ ।
By-একাকী রাজপুত্র আবির
আজ সব পিছু টান ফেলে হারিয়ে যাব অসীমে তোমাকে নিয়ে । যেখানে থাকব শুধু তুমি আর আমি। ২ জন মিলে পূরণ করব এতদিন ধরে দেখা সে সব স্বপ্ন গুলো , যা পড়ে রয়েছে পরিপূর্ণতার অপেক্ষায়। ভাসবো দুইজন মেঘের ডানায়। সঙ্গী হবে হলুদ পাখির। উড়ব দু’জন স্বপ্নের দেশে।
হটাত কিসের যেন শব্দে চমকে গেলাম,নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমার বিছানায়। ঘড়ির টিক টিক শব্দের আওয়াজ টা আজ কেমন যেন বেড়ে গিয়েছে, বড্ড কানে লাগছে। পাশ ফিরে মোবাইলে দেখলাম ০৪.০৫ । তার মানে ভোর হতে শুরু করেছে। শুনলাম পেঁচা ডাকছে জানালার পাশে । এটার শব্দেই হয়ত ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। পাশে দেখি আমার ছেলের নিষ্পাপ চেহারা টা , ঘুমাচ্ছে ও। উঠে বসলাম ।পাশে টেবিলে রাখা গ্লাস টা থেকে পানি খেতে গিয়ে দেখি পানি নেই। উফফ আজ ও রাখা হয়নি। মিতু থাকতে কখনই ভুল টা করত না । কারন ও জানে যখনই রাতে আমার ঘুম টা ভেঙ্গে যায় তখন পানি খেতে হয়। এটা আমার অভ্যেস।
এই একটা স্বপ্ন গত ১০ বছর ধরে অনেক বার দেখেছি।আমি স্বপ্ন টাকে পরিপূর্ণতাও দিয়েছিলাম।কিন্তু হটাত এক অজানা ঝড় এসে সব ভেঙ্গে চুড়ে ধ্বংস করে দিয়ে গেল। আজ মিতু আমার থেকে অনেক দূরে। ও আমার থেকে অনেক দূরে আর রেখে গেছে ওর অস্তিত্ত কে আমার কাছে। আর তাকে ঘিরেই আমার জীবন।ওর মুখের দিকে তাকিয়েই আমার বেঁচে থাকা। হ্যা আমাদের ছেলে স্বপ্নিল এর কথাই বলছি। ওর বয়স আজ ৪ বছর ৫ মাস ৩ দিন হতে চলল। ওর বয়সের প্রতিটা দিন মনে রাখার মাঝে একটা কারন আছে। মাঝে মাঝে একাকীত্ব তা অনেক কষ্টের লাগে। কিন্তু ও যখন আব্বু আব্বু বলে বুকে ঝাঁপিয়ে পরে কষ্টের ভার তা অনেক কম লাগে। ওর চেহারা টা হয়েছে ঠিক ওর মায়ের মতো।অনেক আদুরে, আর ও হাসলে মিতুর মত ওর গালেও টোল পরে । এতে ওর চেহারাটা অনেক মধুর লাগে।
দেখতে দেখতে আমার ছেলেটা অনেক বড় হয়ে গেল।অনেক বুঝতে শিখেছে ও,আগের মত বায়না করে না যে সবার আম্মু আছে আমার আম্মু নেই কেন? অনেক কষ্ট হত ওকে বুঝ মানাতে ।বুয়া যখন ফোন দিত , ওর কান্না আর থামান যাচ্ছে না,অফিসের অনেক প্রয়োজনীয় মিটিং ফেলে আমাকে দৌড়ে চলে আসতে হয়েছে,স্বপ্নিল অনেক রাগী,আমি ছাড়া আর কেউ থামাতে পারে না ওর যখন রাগ উঠে তখন।ওকে দোষ দিয়ে কি লাভ মাঝে মাঝে আমি নিজেয় নিজেকে বুঝাতে পারি না।আজ অনেক মনে পড়ছে আমার মিতু টাকে। পুরানো দিন গুলি বার বার চোখের সামনে ভাসছে।
সাল তখন ২০১২ ডিসেম্বর মাস চলছিল।আমি তখন ৩য় বর্ষের ছাত্র। আমার ছোট থেকেই অনেক লিখার শখ। তাই একটু একটু লেখালেখির চেষ্টা করতাম। ফেবু তে আমার পেজ ছিল, অনেক পেজ এ আমার ছোট গল্প বা বিভিন্ন ছোট লেখা ছাপা হত।সেই কারনে অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলাম।অনেকেই আমার লেখা পছন্দ করত। নিয়মিত অনেক ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসত। মোটামুটি সবাইকেই বন্ধু বানাতাম কেবল ফেইক আইডি ছাড়া। মেঘবতী কন্যা নামের একটি মেয়ের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট অনেকদিন ধরে ঝুলে আছে। আমি এই টাইপের নামের রিকুয়েস্ট কম পাইনি, কারন এইগুলো ফেইক হয় বেশি।তাও ওই আইডিটার টাইম লাইনে গিয়ে দেখলাম রিয়েল হতে পারে , তাই এড করলাম। অনলাইনেই ছিলাম। হটাত দেখি চ্যাট এ মেসেজ,
-আপনার তো দেখি অনেক পার্ট।
-মানে কি? কি বলতে চান???
-এতদিন হল রিকুয়েস্ট পাঠালাম এড করেননি কেন?
- আপনি কে?আপনাকে কি আমি চিনি?
-চিনতে হবে না,না চিনলে কি আইডি তে রাখা যাই না??
-হা যায়, কিন্তু আপনার নাম কি?
- আপনি কি অন্ধ নাকি ???? আমার আইডি নাম দেখছেন না?
- হ্যা দেখছি,কিন্তু মেঘবতী নামে তো কারো নাম শুনিনি কখনও।
- আগে শুনেন নি আজ শুনলেন। আমার নাম নিয়ে আপনার মাথা ব্যাথা কেন???
-না মাথা ব্যাথা না, চিনতে পারছিনা তাই।
-এত চিনতে হবে না, আচ্ছা আপনি তো সেই লেখক তাই না??? যার গল্প **** পেইজ এ প্রকাশিত হয়???
- হ্যা।
-আপনি খুব ভাল লেখেন।
- জি, ধন্যবাদ।
এই ভাবেই আমাদের কথা শুরু হল।অর সাথে আমার নিয়মিত চ্যাট হত। ২ জন খব ভাল বন্ধু হয়ে গেছিলাম।আমাদের আড্ডা খুব জমত। কথা শুরু হলে শেষ ই হত না। ২ জন ২ জন কে তুই করে ডাকতাম। কখন যে ওকে ভালবেসে ফেলেছিলাম বুঝতেই পারিনি।কিন্তু আমি ওকে অনেক ভয় পেতাম যদি সত্যি টা বলি তখন যদি ও আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু একদিন আমার সব স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। ও ফোন করে বলল ও কাউকে ভালবেসে। খুব কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন। কিন্তু ওকে বুঝতে দেই নি। ওকে বললাম , খুশির খবর পার্টি কখন দিবি??? ও কেমন যেন মনে হয় মন মরা হয়ে গেল।বলল , ‘দিব’ এই বলে ফোন রেখে দিল। এরপর কয়েকদিন ও চ্যাট এ আসেনি। ভাবলাম হয়ত নতুন প্রেমিক কে নিয়ে ব্যস্ত তাই আসেনি। তাই আমিও আর ফোন দিই নাই। একেকটা দিন খুব খারাপ লাগত,মন মরা হয়ে বসে থাকতাম। ৪ দিন পর ওর ফোন। প্রথম বার রিসিভ করলাম না। ২য় বার এ ধরলাম,
-তুই কি ভাবছিস আমি মরে গেছি??
- ধুরর পাগলী কি বলছিস এসব???
- তা নয়ত কি??? তুই তো একটা বার ফোন দিয়ে জানতে চাস নি আমি কই।
- আসলে তা না,আমি ভাবছি তুই তোর bfকে নিয়ে ব্যস্ত।
- তাই না কুত্তা। তোকে পেলে আমি খুন করব। গত ৪ টা দিন আমি জ্বর এর সাথে যুদ্ধ করছি আর তুই বলছিস কিনা .........।।
-কেমন যেন ভাল লাগল।আমি বললাম তা যুদ্ধে কে জিতল???
-কেন তোর সাথে কে কথা বলছে? ভুত ????
- হি হি হি না, মিতু পাগলী।
-তোর আমার প্রেমিক কে নিয়া বহুত আগ্রহ না???
- থাকবেই ত,হাজার হলেও তো তোর প্রেমিক।
- ঠিক আছে কাল সানমারে আসিস।
- কেন?
- তোকে আমার প্রেমিকের সাথে দেখা করাব।
- কি দরকার?? কি হবে দেখা করে ?
-তোর তো ওকে নিয়ে অনেক আগ্রহ তাই ৪ টার সময় আসবি, আসবি কিন্তু।
-ওকে আসব।
- ওই আমি রাখি, মোবাইলে ব্যালান্স বেশি নেই । রাখছি।
একটু চিন্তায় পড়ে গেলাম।আবার খারাপ ও লাগছে । যাকে ভালবাসি তার বয়ফ্রেণ্ডের সাথে দেখা করতে হবে । তার সাথে হাসিমুখে কথা কথা বলতে হবে ।কোনভাবেই যেতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু আমি মিতুর কথা তো কোনদিন ফেলিনি। যত কষ্ট হোক যেতেই হবে।ওইদিন পুরো রাত ঘুমাতে পারলাম না। সকাল থেকে অপেক্ষা করছি। যাক সময় ঘনিয়ে আসছে।দুপুরের দিকে ও ফোন দিছিল আসব কিনা শিওর হল। ৪ টার দিকে ঘর থেকে বের হলাম।আজ কেন জানি রাস্তায় জ্যাম ও নেই। তাড়াতাড়ি পৌঁছে গেলাম।পৌঁছে ওকে ফোন দিলাম।
- কই তুই???
- আসছি রিকশা তে,তুই?
- এইতো তোর জন্যে অপেক্ষা করছি।
- কিরে এত তাড়াতাড়ি চলে এলি? আমার জামাই কে দেখার জন্যে তোর তো তর সইছে না।
- হুম।হাজার হলেও তোর জামাই না। ওই আমি রাখছি,তাড়াতাড়ি আয়।
- রিকশা তো আমি চালাইতেছি না। যিনি রিকশা চালাচ্ছেন তার সাথে কথা বলবি?????
কিছু না বলে ফোন টা রেখে দিলাম।কেন জানি ওর দুষ্টামি গুলা ভাললাগছিল না। ২০ মিন পর ও আসল। এসেই বলে
-কিরে অপেক্ষা করতে করতে টায়ার্ড হয় গেছস ?????????
- না,তোর সাথে কাউকে দেখছিনা যে?
- কে?????
- কেন যাকে দেখা করাবি বলছস।
- ওহ। ও আসবে,চল আমরা উপরে গিয়ে বসি।
উপরে ফুড কোর্ট বাইরে বসলাম না। একটা রেস্টুরেন্ট এ বসলাম। আমি বললাম,
- অর্ডার এখন দিবি? নাকি ও আসলে ??????
- এখন দে।
- আমার জন্ন্যে কফি, কি খাবি তুই?
- আমার জন্ন্যেও কফি।
- উনি আসবেন কখন????????????/
- কেন? বেশি দেখতে ইচ্ছে করছে?
- আরে ওর কারনেই তো আসা, তাই না।
- আচ্ছা, ফাহিম,তুই কাউকে ভালবাসিস????
- হুম, বাসতাম কিন্তু সে অন্য কারো।
- অন্য কারো মানে??
- মানে সে আরেকজন কে ভালবাসে।
- কে সে? আমাকে বল।আমি ওকে তোর কাছে নিয়ে আসব।তোর করে দিব।
- পারবি তুই?
- হ্যাঁ পারবো।
- হুম,আচ্ছা দেখা যাবে, এবার তোর টারে ফোন দে, আসে না কেন?
- অনেক শখ না ওরে দেখার??ওই দ্যাখ
- মানে কি ?? পাশে তো আয়না এখানে কারে দেখব???
- ভালো করে দেখ,বুঝবি।
- মানে কি? কি বুঝাতে চাচ্ছিস তুই?
- ঠিক ই বুঝাতে চাচ্ছি,যা ভাবছিস তাই।
- মানে?????
- মানে বুদ্ধু আমার মনের মানুষটা আর কেউ না তুই ই, এতদিন ভাবছি তুই ও আমাকে ভালবাসিস,তাই তোকে বলিনি,কিন্তু আমি ভুল বুঝছিলাম রে সরি ।তুই ওর সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দিস আমি তোদের সব ঠিক করে দিব।
কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। নিজেকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ।যাকে ভালোবাসি সেই মানুষ টা আমাকে বলে দিয়েছে সেও আমাকে ভালবাসে।তখন ও ডাকে।
- ওই কি ভাবিস???
- কিছু না।
- ওই আমার যেতে হবে,দেরি হয়ে যাচ্ছে,আর তুই কি রাগ করেছিস??? আমার দুষ্টামিতে??
- আরে দুররর।
- ওকে আমি যাই।
- পৌঁছে ফোন দিস।কথা আছে।
- কি কথা এখন বল।
- না পড়ে বলব।
ওকে রিক্সা তে তুলে দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। ওর মনটা মনে হয় খারাপ।থাক আর কিছুক্ষণ পর ও হবে দুনিয়ার সবচেয়ে সুখি নারী। আমি করব ওকে। ও বাসায় পৌঁছে ফোন দিল। প্রথমবার ধরলাম না। পরেরবার ধরলাম। ফোন এর ওপাশ থেকে সে বলে,
- ওই ফোন ধরস না কেন??
- দেখিনি।
- ও, কি বলবি বল???
- কই কি??
- কই কি মানে?? তুই না বলছিস আমি বাসাই পৌঁছালে কি বলবি,
- ওওও। বলছিলাম???
- কিরে তোর তো দেখি ঢং বেড়ে গেছে, কি বলবি বল নাহলে রাখছি। মাথা টা ধরেছে।
- ও তাই? আচ্ছা তাইলে বাদ দে, পড়ে বলব।
- ওই এখন বল।
- তুই না জানতে চাইছিলি আমি কাকে পছন্দ করি??
- হুম। বল।
- আচ্ছা তুই এখন কই??
- আমি কই মানে আমি আমার বাসায়।
- আরে বলছি কোন রুম এ??
- আমি আমার রুমে।
- তোর রুমে ড্রেসিং টেবিল আছে না??
- হুম আছে তো। কিন্তু এসব জানতে চাস কেন?? যা বলবি বল না।
- প্লিস একটু ড্রেসিং টেবিল এর সামনে যা না। প্লিস।
- তুই না?? একটু শুইছি। তোর জন্ন্যে তাও পারছি না। ওকে আসছি এবার বল।
- আয়নার দিকে দ্যাখ।
- হুম আমাকে দেখা যাচ্ছি দেখছি।
- এবার তোর প্রশ্নের উত্তর পাইছিস??
- মানে কি? কি প্রশ্ন??
- তুই না জানতে চাইছিলি আমি কাকে পছন্দ করি??
- হুম কিন্তু এর সাথে কি সম্পর্ক??
- গাধী আয়নায় যাকে দেখছিস তাকেই আমি ভালোবাসি।
ও হটাত লাইন কেটে দিল। কিছু বুঝলাম না। ৫ মিনিট পর ও ফোন দিল। ফোন ধরার সাথে সাথে ও ঝারা শুরু করল।
- কুত্তা, শালা, বাঁদর, হাতি, টিকটিকি, ফাজিল, বদমাইশ, হারামজাদা, এতদিন ঢং করলি কেন?? বলিস নি কেন?আমাকে কষ্ট দিতে ভালো লাগে??
- কেমনে বলব?? তুই ই তো বল্লি যে তুই কাকে ভালবাসিস। ষ্টক এ গালি আর আছে??
- হুম আছে, সময় হলে পাবি, এই শুন
- হুম বল
- I LOVE U
এই বলে ফোন টা কেটে দিল। কি যে খুশি লাগছিল। সেই থেকে আমাদের যাত্রা শুরু প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টার ভিতর ১০ ঘণ্টা ওর সাথে ফোন এ কথা হত। আর সুযোগ পেলেই দেখা। এভাবেই সময় কেটে যাচ্ছিল।আমরা বিয়ের পর আমাদের বাচ্চার নাম কি দিব তাও ঠিক করে রেখেছিলাম। ছেলে হলে স্বপ্নিল আর মেয়ে হলে মেঘা। এরই মাঝে আমি পাস করে বের হলাম, এখন একটা ব্যাঙ্ক এ চাকরি করি আগের চেয়ে একটু কম কথা হয়। কিন্তু তবু আমাদের ভালবাসায় এতোটুকু কমতি হয়নি। দেখতে ৪ বছর পেরিয়ে গেল আমাদের সম্পর্কের। ওর পরিবার থেকে বিয়ের চাপ আসতে থাকে। ও আমাকে বলত ওর আব্বা বা ভাইয়ার সাথে কথা বলতে। আমিও চাচ্ছিলাম কিন্তু কিভাবে যাব বুঝে উঠতে পারছিলাম না।তখন ফেরেস্তার মত সাহায্য করল ওর এক খালাত বোন। সেই আমার কথা ওর বন্ধু হিসেবে বলে, মিতুর পরিবার ও মেনে নেয়। আমাদের সম্পর্কের ৪ বছর ৪ মাসের মাথায় আমাদের বিয়ে হয়। সেই থেকে আমাদের সুখের সংসার শুরু। আমরা জানতাম এবং আমাদের বন্ধুরাও বলত আমরা দুনিয়ার সবচেয়ে সেরা জুটি। সময় কেটে যাচ্ছিল।
এরই মাঝে একদিন খবর পেলাম আমি বাবা হতে চলেছি।এই খবরটির মাঝে যে এত আনন্দ কখনও কল্পনাও করতে পারিনি। আমাদের পুরা পরিবার খুশি। সবাই ওর অনেক যত্ন করত। আস্তে আস্তে ওর DATE কাছিয়ে আসছিল। ওর নাকি অনেক ভয় হত। আমি ওকে বুঝাতাম এখানে ভয় এর কি আছে। আমরা তো পাশে আছি। আর আমি তো আছিই। কিন্তু পারলাম না। আমি ব্যাঙ্ক এর বিশেষ কাজে ঢাকা গিয়েছিলাম। ওইদিন রাতে আম্মা ফোন করে মিতু কে ক্লিনিক এ নিয়ে যাচ্ছে। আমি বলি ওকে তোমরা নিয়ে যাও।আমি এই বলে সাথে সাথে রওনা হলাম।অনেক কষ্টে বাস এ সিট পেলাম। আমার টেনশন এড় চেয়ে খুশি বেশি লাগছিল। মোবাইল টা সারাদিন চার্জে দেয়নি বন্ধ হয়ে আছে। কোন খবর নিতে পারছিলাম না । মনে মনে হিসেব করলাম আজ আমাদের সম্পর্কের ৫ বছর ৭ মাস হতে চলল। ৬ টার দিকে গাড়ি থেকে নামলাম।তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে ক্লিনিক এর দিকে গেলাম। ক্লিনিক এ দেখি সবাই আছে। কিন্তু পরিবেশ টা কেমন যেন থমথমে। ছোট ভাই জানতে চাইল আমার মোবাইল বন্ধ কেন?? বললাম চার্জ ছিল না। আম্মাকে দেখলাম কোলে একটা ফুটফুটে বাবু। মা বলল। তোর ছেলে হয়েছে। অনেক খুশি লাগছিল। আনন্দে যেন নাচতে ইচ্ছে করছিল। আমি বলি যাই মিতু কে দেখি আসি।সামনে দেখলাম আমার শ্বশুর- শাশুড়ি উনাদের সালাম দিয়ে মিতুর রুম এর দিকে এগিয়ে গেলাম। দরজাটা খুলতেই কেমন যেন পাথর হয়ে গেলাম আমি। বিছানায় আপাদমস্তক সাদা কাপর দিয়ে ডাকা কেউ শুয়ে আছে। কাছে গিয়ে কাপড় সরালাম। না!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
এরপর জেনেছিলাম মিতুর মাঝে স্বপ্নিল এর জন্মের সাথে সাথে ওর গলব্লাডার এ একটি টিউমার এর জন্ম হয়েছিল। আর সেটি অনেক বড় হয়ে গিয়েছিল। আর ডাক্তার রা ঘুনাক্ষরে ও সেটির কথা জানত না ফলে ওইটি ফেটে যায়। আর আমার মিতু........................। ও নাকি শেষ মুহূর্তে আমার সাথে অনেক কথা বলতে চেয়েছিল কিন্তু আমার মোবাইল বন্ধ থাকাই সেটি সম্ভব হয়নি। আমার মিতু টা কষ্ট নিয়ে চলে গেল। আমার সাথে কথা বলতে পারল না। নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে। যেই অপরাধবোধ আমি এখনও কাঁধে নিয়ে ঘুরছি।
হটাত এলারম এর শব্দে খেয়াল হল। ৭ টা বেজে গেছে। স্বপ্নিল কে রেডি করতে হবে। আমার রেডি হতে হবে। আমার মিতু টা নিশ্চয় ওইপার থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে আমার এই হাল দেখছে। সেই অগোছালো আমি কে ও কতটা গুছিয়ে দিয়ে গেছে। আর সাথে নিয়ে গেছে আমার সব সুখ ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)



